ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে আবারও নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্নামঞ্চে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের পাশে নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী।
ধর্নামঞ্চে উপস্থিত নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন,
“ওরা সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারের অবমাননা করছে। কেন বৈধ ভোটারদের নাম কাটছেন? এদের সকলের আধার কার্ড আছে। আপনাদের মানুষের কাছে জবাব দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ,
“পক্ষপাতদুষ্ট কমিশন, পক্ষপাতদুষ্ট জ্ঞানেশ কুমার। এরা আমার ভোটার। এদের নাম কেটে জিতবে ভাবছেন। এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, একটু মায়া-মমতাও নেই।”
‘গণতন্ত্র লুট হচ্ছে’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ,
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
তাঁর কথায়,
“গণতন্ত্র লুট করা হচ্ছে। সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কেউ না লড়লে বাংলা লড়বে। বাংলাই তো স্বাধীনতা এনেছিল।”
ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ভোটারদের দেখিয়ে তিনি বলেন,
“এরা প্রমাণপত্র নিয়ে এসেছে। কিন্তু কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানছে না, কারণ বিজেপি।”
কমিশনকে নিশানা
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“কমিশন শুধু বিজেপিকে সন্তুষ্ট করতে কাজ করছে। একজন হোঁদল কুতকুত বসে বসে কলকাঠি নাড়ছে।”
একই সঙ্গে রাজ্যপাল আনন্দ বোসের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন,
“ধনখড়ের মতো অবস্থা করে দেওয়া হয়েছে আনন্দ বোসের।”
সংখ্যালঘু ও মহিলাদের নাম বাদ?
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ,
ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে মহিলা, সংখ্যালঘু ও কৃষকদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি কমিশনের কাছে আবেদন জানান,
“যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের নাম আবার যুক্ত করা হোক। বিহারে তো লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ছিল না, তাহলে বাংলায় কেন?”
এই ইস্যুকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
