ইরান–ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাব! আপাতত নতুন ডবল এলপিজি সিলিন্ডার সংযোগ বন্ধ

নয়াদিল্লি: ইরান–ইজরায়েলের যুদ্ধের (Iran–Israel Conflict) প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আপাতত নতুন করে ডবল এলপিজি সিলিন্ডার (LPG Double Cylinder) সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্যাস সংস্থাগুলি।

তেল সংস্থাগুলোর তরফে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— কোনও গ্রাহক দ্বিতীয় সিলিন্ডারের জন্য আবেদন করলেও আপাতত তা মঞ্জুর করা যাবে না। আরব দুনিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে গ্যাস সরবরাহে যাতে চাপ না পড়ে, সেই কারণেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

একটি সিলিন্ডার নিয়েই চালাতে হবে রান্না

এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব পরিবারের রান্নাঘরে বর্তমানে একটি মাত্র সিলিন্ডার রয়েছে, আপাতত তাদের সেই একটি সিলিন্ডার দিয়েই কাজ চালাতে হবে।

গ্যাস ডিলারদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হয়, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল জায়গা হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে।

যুদ্ধের জেরে যদি এই পথের জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়, তাহলে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

কারণ ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। এর অধিকাংশই আসে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে এবং প্রায় সব জাহাজই হরমুজ প্রণালী পেরিয়েই ভারতে পৌঁছায়।

দেশে ৩০ দিনের গ্যাস মজুত

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। তবে নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছলে সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ইতিমধ্যেই আতঙ্কে অনেক গ্রাহক আগেভাগেই সিলিন্ডার বুকিং শুরু করেছেন। এতে মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডিস্ট্রিবিউটরদের কথায়, অনেকেই অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাই অপ্রয়োজনীয় মজুত না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

পেট্রল–ডিজেলের দাম নিয়ে গুজব

এদিকে সমাজমাধ্যমে তেলের দাম বাড়তে পারে— এমন গুজব ছড়াতে শুরু করেছে। তার প্রভাব পড়ছে পেট্রল পাম্পগুলিতেও।

পাম্প মালিকদের দাবি, দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই এখন গাড়ির ট্যাঙ্ক ভর্তি করে নিচ্ছেন।

তবে ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অরুণ সিংঘানিয়া আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তেলের জোগান কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দামের সামান্য হেরফের হতে পারে, তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *