রাজ্যসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেন বৃহস্পতিবার। বিধানসভায় এসে মনোনয়ন পেশ করেন তৃণমূল কংগ্রেস মনোনীত রাজীব কুমার, মেনকা গুরুস্বামী, কোয়েল মল্লিক ও বাবুল সুপ্রিয়। অন্যদিকে বিজেপির তরফে মনোনয়ন জমা দেন রাহুল সিনহা।
তৃণমূলের চার প্রার্থীর মধ্যে বাবুল সুপ্রিয়কে বাদ দিলে বাকি তিনজনই বেশ চমকপ্রদ। রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি এবং দুঁদে আইপিএস অফিসার রাজীব কুমার সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই তাঁর পরিচিতি। এবার তাঁকেই রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে তৃণমূল।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে বিধানসভায় রাজীব কুমার মাদার টেরেজার একটি উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন,
“I trust God will not give any responsibility which I cannot handle, I just wish he didn’t trust so much।”
তিনি বলেন, ঈশ্বর মানুষের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রেখেই দায়িত্ব দেন।
দীর্ঘদিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে রাজীব কুমারের। সূত্রের খবর, এদিন সকাল ১১টার মধ্যে সকলকে বিধানসভায় উপস্থিত থাকতে বলা হলেও সবার আগে পৌঁছে যান তিনিই। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যেই সেখানে হাজির হন রাজীব কুমার।
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর মনোনয়নও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি রাজ্যসভায় গেলে দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে ইতিহাস তৈরি হতে পারে। কারণ তিনিই হতে পারেন দেশের প্রথম প্রকাশ্য সমকামী সাংসদ। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান মেনকা। তিনি বলেন, একজন কনস্টিটিউশনাল ল’ইয়ার হিসেবে সংসদের উচ্চকক্ষে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের।
এদিন মনোনয়ন জমা দেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও। তিনি বলেন, এটি একটি গুরুদায়িত্ব। মানুষের সেবা ও দেশের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চান তিনি।
তৃণমূলের আর এক প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় জানান, মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর প্রথম লক্ষ্য হবে।
অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দলের বর্ষীয়ান নেতা রাহুল সিনহা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথমবার সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চলেছেন তিনি। ১৯৯৮ সাল থেকে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বহুবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ের মুখ দেখেননি। এবার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
রাহুল সিনহা বলেন, “দল আমাকে যে সুযোগ দিয়েছে, তা আমি কাজে লাগাতে চাই। বাংলার মানুষের কথা রাজ্যসভায় তুলে ধরব।”
আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে বিধানসভায় সংখ্যার হিসেবে আলাদা করে ভোটাভুটির সম্ভাবনা নেই। ফলে এই পাঁচ প্রার্থীই রাজ্যসভায় যাচ্ছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
