এক্সাইজ নীতি মামলায় কেজরিওয়াল-সহ ২৩ জনকে অব্যাহতি, সিবিআইয়ের তদন্তে কড়া সমালোচনা আদালতের

নয়াদিল্লি: বাতিল হওয়া দিল্লির আবগারি (এক্সাইজ) নীতি সংক্রান্ত মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া-সহ মোট ২৩ জন অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিল রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত। শুক্রবার দেওয়া বিস্তৃত রায়ে আদালত সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর তদন্ত ও অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলে।

আদালত জানায়, প্রসিকিউশনের বর্ণনা ছিল “অনুমাননির্ভর, আইনগতভাবে অটেকসই এবং পূর্বধারণা দ্বারা প্রভাবিত।” অভিযোগপত্রে উপস্থাপিত তত্ত্বগুলি “আইনসম্মত প্রমাণের বদলে কল্পনা ও অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে।”

🔎 আদালতের পর্যবেক্ষণের মূল দিকগুলি:

  • সিবিআইয়ের তথাকথিত ১২% পাইকারি মার্জিন তত্ত্বকে আদালত “প্রমাণযোগ্যভাবে ভ্রান্ত, অর্থনৈতিকভাবে অজ্ঞতাপূর্ণ ও আইনগতভাবে অটেকসই” বলে মন্তব্য করে।
  • তদন্তে বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতিকে জুড়ে “ডটস জোড়া লাগানোর” চেষ্টা হয়েছে, যা ফৌজদারি আইনে গ্রহণযোগ্য নয়।
  • তদন্তকে আদালত “পূর্বপরিকল্পিত ও কোরিওগ্রাফ করা অনুশীলন” বলে অভিহিত করেছে, যেখানে পূর্বনির্ধারিত ষড়যন্ত্রের কাঠামোতে পরবর্তীতে ভূমিকা বসানো হয়েছে।
  • সরকারি কর্মচারীরা নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন—এই বিষয়টি তদন্তকারী অফিসার উপেক্ষা করেছেন বলে আদালতের মন্তব্য।
  • আদালত জানায়, তদন্ত প্রক্রিয়া “আইনের শাসনের মৌলিক নীতির উপর একটি সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিক আঘাত” হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
  • “South Group” শব্দবন্ধের ব্যবহারকে আদালত স্বেচ্ছাচারী ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দেয়, যার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল না।
  • সাধারণ আর্থিক লেনদেনকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু অপরাধমূলক উদ্দেশ্য (mens rea) বা ব্যক্তিগত লাভের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

রায়ে আদালত আরও জানায়, প্রসিকিউশনের বর্ণনা “নিজের ওজনেই ভেঙে পড়েছে।” এমনকি তদন্তকারী আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে, কারণ তিনি যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই এক জন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা গঠন করেছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুরো মামলাটি “বিচারিক পর্যালোচনার পরীক্ষায় টিকতে অক্ষম এবং সম্পূর্ণভাবে অবিশ্বাস্য প্রমাণিত।”

এই রায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এখন নজর কেন্দ্র ও দিল্লির রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *