৫৯০ কোটি টাকার IDFC ফার্স্ট ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০০ কোটি টাকা গিয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থার অ্যাকাউন্টে, যা এক প্রাক্তন ব্যাঙ্ক কর্মীর স্ত্রী ও ভগ্নিপতির মালিকানাধীন। এই তথ্য জানিয়েছে হরিয়ানা স্টেট ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (SV & ACB)।
চার জন গ্রেফতার
এসভি অ্যান্ড এসিবি-র ডিরেক্টর জেনারেল এ এস চাওলা বুধবার জানান, প্রাক্তন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার রিভাভ ঋষি এবং প্রাক্তন রিলেশনশিপ ম্যানেজার অভয় কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া অভয়ের স্ত্রী স্বাতি সিংলা এবং তাঁর ভাই অভিষেক সিংলাকেও আটক করা হয়েছে।
‘স্বস্তিক দেশ প্রোজেক্টস’ নামে যে সংস্থার অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, তার ৭৫ শতাংশ শেয়ার স্বাতি সিংলার এবং বাকি ২৫ শতাংশ অভিষেকের নামে।
৩০০ কোটি টাকার লেনদেন
চাওলা জানান, “এই সংস্থার অ্যাকাউন্টেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা স্থানান্তরিত হয়েছিল, পরে সেখান থেকে অন্যত্র সরানো হয়। টাকার বড় অংশই হরিয়ানা সরকারের বিভিন্ন দফতরের।”
চণ্ডীগড় প্রশাসনের কিছু অর্থও জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যদিও পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে লেনদেন
তদন্তে উঠে এসেছে, IDFC ফার্স্ট ব্যাঙ্কের শাখা চণ্ডীগড়ে, হরিয়ানা সরকারের দফতর রাজ্যের ভেতরে, আর যে AU স্মল ফাইন্যান্স ব্যাঙ্কে টাকা পাঠানো হয়েছিল তার শাখা মোহালিতে। এই জটিল লেনদেন পদ্ধতি তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রাথমিকভাবে হরিয়ানা সরকারের এক দফতর তদন্ত শুরু করে। পরে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে অভিযোগ দায়েরের উদ্যোগ নেয়। শেষ পর্যন্ত পঞ্চকুলায় এফআইআর দায়ের হয় এবং আইপিএস অফিসার গঙ্গা রাম পুনিয়ার তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়।
২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার
চাওলা জানান, প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংগ্রহ করে SIT ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত দুই ব্যাঙ্ককর্মী প্রায় ছয় মাস আগেই IDFC ফার্স্ট ব্যাঙ্ক ছেড়েছিলেন।
টাকা ফেরত দিয়েছে ব্যাঙ্ক
IDFC ফার্স্ট ব্যাঙ্ক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে কিছু কর্মী জাল নথি ও ভুয়ো পেমেন্ট নির্দেশ ক্লিয়ার করেছেন, সম্ভবত বাইরের ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশে।
ব্যাঙ্ক দাবি করেছে, তদন্ত চললেও হরিয়ানা সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে মূল টাকা ও সুদ-সহ মোট ৫৮৩ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ফেরত দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ তদন্তের ইঙ্গিত
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, বিপুল অর্থ এবং একাধিক দফতর জড়িত থাকায় তদন্ত দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। পুরো অর্থপ্রবাহ ও জালিয়াতির নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
