ইজরায়েলের ‘হেক্সাগন জোট’ প্রস্তাবে পাকিস্তানের তীব্র প্রতিক্রিয়া, সেনেটে সর্বসম্মত নিন্দা প্রস্তাব পাস

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ‘অ্যান্টি-র‍্যাডিক্যাল হেক্সাগন’ নামে একটি নতুন নিরাপত্তা জোট গঠনের প্রস্তাব দেওয়ার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পাকিস্তান। ভারতের নাম অন্তর্ভুক্ত করে প্রস্তাবিত এই জোটকে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সেনেটে সর্বসম্মত নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছে।

পাকিস্তানের শাসক জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-র নেতা পালওয়াশা মোহাম্মদ জাই খান সেনেটে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, ইজরায়েলি নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পক্ষে বিপজ্জনক। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলির বিরুদ্ধে জোট গঠনের মন্তব্যকে “উসকানিমূলক” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবে কী বলা হয়েছে?

সেনেটের প্রস্তাবে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তারা “ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামিক দেশগুলির সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা” খর্ব করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ইজরায়েল আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ, রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক আদালতের (ICJ) পরামর্শমূলক মতামত অগ্রাহ্য করছে।

পাকিস্তান পুনরায় ফিলিস্তিনি জনগণের “অবিচ্ছেদ্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার”-এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে সওয়াল করেছে। একইসঙ্গে “অধিকৃত অঞ্চল” থেকে ইজরায়েলের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

সোমালিল্যান্ড ইস্যুতেও আপত্তি

ইজরায়েল সম্প্রতি সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় (ডিসেম্বর ২০২৫)। পাকিস্তান এই পদক্ষেপকেও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে নিন্দা করেছে এবং অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক নেশনস-সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে একসুরে আপত্তি জানিয়েছে।

কী এই ‘হেক্সাগন জোট’?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফরের কয়েকদিন আগে নেতানিয়াহু ‘হেক্সাগন’ নামে একটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা কাঠামোর কথা ঘোষণা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই জোটে থাকতে পারে—

  • ইজরায়েল
  • ভারত
  • গ্রিস
  • সাইপ্রাস
  • এবং কয়েকটি আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশ

নেতানিয়াহু জানান, এই জোট মূলত পশ্চিম এশিয়ায় “র‍্যাডিক্যাল শিয়া অক্ষ” (ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠী) এবং উদীয়মান “র‍্যাডিক্যাল সুন্নি অক্ষ”-এর মোকাবিলায় গঠিত হবে। জোটের লক্ষ্য হবে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার করা।

তবে এখনও পর্যন্ত এই প্রস্তাবিত জোট নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।


এই প্রস্তাব ও পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব কতদূর গড়াবে, এখন সেদিকেই নজর কূটনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *