মঙ্গলবার সকাল থেকেই অস্থিরতার মধ্যে পড়ে ভারতের শেয়ার বাজার। দিনের শেষ ভাগে চাপে আরও তীব্রতা দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ সেনসেক্স প্রায় ১০৩০ পয়েন্ট নেমে যায়। একই সময়ে নিফটি ৫০ প্রায় ২৭৪ পয়েন্ট কমে ২৫,৪৩৯-এর কাছাকাছি অবস্থান করছিল।
এই পতনের জেরে বিনিয়োগকারীদের মোট ক্ষতির অঙ্ক ৪.২৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে। গত দু’দিনের ইতিবাচক আবহাওয়া কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুছে যায় বাজার থেকে।
কেন পড়ল বাজার?
এ দিনের পতনের নেপথ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ কাজ করেছে।
১. আমেরিকার শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা
গত সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত খারিজ করে। তবে ট্রাম্প শিবির নতুন করে আরও কড়া শুল্ক আরোপের পথে হাঁটতে পারে— এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা, যার প্রতিফলন দেখা গেছে ভারতীয় বাজারেও।
২. ডলারের দাম বৃদ্ধি
মার্কিন ডলার শক্তিশালী হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রবাহে প্রভাব পড়ে। ডলারের টানা উত্থান ভারতীয় শেয়ার বাজারে বিদেশি লগ্নি কমার আশঙ্কা তৈরি করছে।
৩. অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে এবং গত ছ’মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে, যা দেশের অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৪. টেক সেক্টরে চাপ
আইটি খাতের শেয়ারগুলিতে ব্যাপক বিক্রি লক্ষ্য করা গেছে। ফেব্রুয়ারি মাসেই আইটি সূচক প্রায় ২০ শতাংশ নেমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর দ্রুত প্রসার আইটি শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ইনফোসিস, টিসিএস, এইচসিএল টেক, টেক মাহিন্দ্রা, উইপ্রো, কোফোর্জ, পারসিস্ট্যান্ট সিস্টেম এবং এমফাসিস— একাধিক বড় সংস্থার শেয়ার রেড জোনে লেনদেন করেছে।
বর্তমানে বাজারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও তেলের দামের গতিপ্রকৃতির উপরই আগামী দিনের বাজারের দিক নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
