রাজ্য জুড়ে চলছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR)। বিভিন্ন জেলা থেকে অশান্তি, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
শনিবার জারি হওয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, মার্চ মাসেই রাজ্যে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হবে। দুই দফায় বাহিনী মোতায়েন করা হবে—প্রথম দফায় ১ মার্চ আসবে ২৪০ কোম্পানি, দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চ পৌঁছবে বাকি ২৪০ কোম্পানি।
এর আগের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার SIR সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তবে পুরো তালিকা প্রস্তুত না হলে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের সুযোগও রাখা হয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, আপাতত উপদ্রুত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যুক্ত আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতেই বাহিনী ব্যবহার করা হবে।
উল্লেখ্য, SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোল অবজার্ভার ও BLO-দের ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনা সামনে এসেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগানের গাড়িতে হামলার অভিযোগও ওঠে।
এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে SIR মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডিজি-কে কড়া ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন, আইন মেনে ব্যবস্থা না নিলে দায় এড়ানো যাবে না।
এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন তাৎপর্য তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
