রাহুল গান্ধীকে কড়া আক্রমণ কিরেন রিজিজুর, ‘দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক’ মন্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর দাবি, রাহুলের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান দেশের নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতার সঙ্গে “ভারত-বিরোধী শক্তি, মাওবাদী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর” যোগাযোগ রয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজিজু বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে মতবিরোধ ও হট্টগোল অস্বাভাবিক নয়। প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেদের ইস্যু সামনে আনতে চায়। তবে তাঁর কথায়, “বিরোধিতা করতে গিয়ে সংসদের মর্যাদা ভাঙা উচিত নয়। আমরা বিরোধী দলে থাকাকালীন স্পিকারের দিকে কাগজ ছুঁড়ে মারিনি।”

রাহুল গান্ধীর আচরণ প্রসঙ্গে রিজিজু আরও বলেন, বিরোধী দলনেতা গোটা বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিত্ব করেন। সংসদ থেকে ওয়াকআউট করা, সাধারণ মানুষকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলা বা অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃতি টেনে আনা—এসবকে তিনি “শিশুসুলভ আচরণ” বলে কটাক্ষ করেন।

সম্প্রতি তথাকথিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম জড়ানো নিয়ে রাহুল যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, সেটিকেও তীব্রভাবে খারিজ করেন রিজিজু। তাঁর বক্তব্য, “যদি কোনও নথি বা প্রমাণ থাকে, তা প্রকাশ করা হোক। ভিত্তিহীনভাবে প্রধানমন্ত্রীর নাম জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, যা হতাশাজনক।”

এছাড়া, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ ইস্যুতে প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর অংশ উদ্ধৃত করে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছিলেন রাহুল। ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’ শীর্ষক ওই বইয়ের কিছু অংশ একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হওয়ার পরই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, পূর্ব লাদাখে চিনা সেনার অগ্রগতি নিয়ে সতর্কবার্তার পরও কেন্দ্রীয় স্তরে সিদ্ধান্তহীনতা দেখা গিয়েছিল।

এই প্রসঙ্গ তুলেই সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়েছিলেন রাহুল, তবে স্পিকারের হস্তক্ষেপে তাঁকে থামানো হয়। বিষয়টি ঘিরে এখনও রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত।

রিজিজুর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে দিল্লির রাজনীতিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *