রাজ্যের জন্য বড় সুখবর। সামাজিক মাধ্যমে টুইট করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (Food and Agriculture Organization – FAO) বাংলার চারটি গ্রামকে ‘Globally Important Agricultural Heritage Systems’ (GIAHS) স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, জল ব্যবস্থাপনা, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং ঐতিহ্যবাহী কৃষিপদ্ধতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই গ্রামগুলি অনন্য নজির গড়েছে। বিশেষ করে দেশীয় ধানের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি পুনরুজ্জীবিত করা, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক চাষে জোর দেওয়া এবং কৃষি সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, ২০২০ সালে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্প আজ আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং কৃষিভিত্তিক টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘মাটির সৃষ্টি’ একটি অনন্য জনমুখী উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
কী এই ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প?
রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমাঞ্চলের রুক্ষ, অনুর্বর ও একফসলি জমিকে উন্নত করে বহুফসলি ও বছরভর চাষযোগ্য করে তোলা। জমির উর্বরতা বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পঞ্চায়েতভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা হয়।
পুকুর খনন, ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প এবং জল সংরক্ষণের মাধ্যমে চাষের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে শুধু ধান নয়, শাকসবজি ও ফলের চাষও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রকল্পের আওতায় লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং গ্রামীণ পরিবারের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি রাজ্য সরকারের।
দীর্ঘ প্রচেষ্টা, কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক সহায়তার ফলেই এই চারটি গ্রাম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কী এই GIAHS স্বীকৃতি?
FAO-র GIAHS স্বীকৃতি দেওয়া হয় এমন কৃষি ব্যবস্থাকে, যা ঐতিহ্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং টেকসই উৎপাদন পদ্ধতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে অল্প কিছু কৃষি অঞ্চলই এই মর্যাদা পায়। ফলে বাংলার চার গ্রামের অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
এই সম্মানের ফলে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলির আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে। কৃষিভিত্তিক পর্যটন, গবেষণা, জৈব পণ্য রপ্তানি এবং বিশ্বমানের সহযোগিতার নতুন পথ খুলে যেতে পারে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
কৃষকদের উদ্দেশে উৎসর্গ
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং খাদ্য সংস্কৃতি রক্ষায় এই আন্তর্জাতিক সম্মান বাংলার সামগ্রিক কাজের স্বীকৃতি। তিনি এই গৌরব গ্রামবাংলার মানুষ এবং বিশেষ করে কৃষক ভাই-বোনদের উৎসর্গ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বীকৃতির ফলে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি-উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাবে এবং ভবিষ্যতে কৃষিভিত্তিক রপ্তানি, গবেষণা ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
রাজ্যের এই সাফল্যকে তিনি সকল গ্রামবাসী ও কৃষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল বলেই উল্লেখ করেছেন।
