স্মার্ট হচ্ছে তিলোত্তমার রাস্তা, কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত হবে স্ট্রিট লাইট

পাইলট প্রকল্প শুরু আলিপুর-কালীঘাটে, বিদ্যুৎ খরচ কমতে পারে ২৭ শতাংশ

কলকাতার রাস্তাঘাট আরও ঝলমলে ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। শহরের স্ট্রিট লাইট কবে জ্বলবে, কবে নিভবে এবং কোথাও আলো খারাপ হলে তা দ্রুত মেরামতের জন্য চালু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা। অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য দেশের নামী সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে।

পুরসভার মেয়র পারিষদ (আলো) সন্দীপ রঞ্জন বক্সি জানান, বিষয়টি এখনও আলোচনার স্তরে রয়েছে। টাটা এবং ফিলিপ্স-সহ একাধিক সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।


সেন্ট্রাল মনিটরিং ও কন্ট্রোল রুম

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী গোটা শহরকে চারটি জ়োনে—উত্তর-মধ্য, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—ভাগ করে নজরদারি চালানো হবে। একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে এই পর্যবেক্ষণ হবে।

কোনও এলাকায় আলো বিকল হলেই সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের কাছে অ্যালার্ট পৌঁছে যাবে। বর্তমানে নাগরিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হয়, ফলে সময় নষ্ট হয়। নতুন প্রযুক্তি চালু হলে সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করা যাবে বলে আশা পুরসভার।


পাইলট প্রজেক্টের সূচনা

প্রথম পর্যায়ে আলিপুর ও কালীঘাট এলাকায় এই স্মার্ট ব্যবস্থা চালু করা হবে। পুরসভার দাবি, টিসিএস-এর আইওটি ভিত্তিক সলিউশন ব্যবহার করলে বিদ্যুতের খরচ প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। প্রকল্প সফল হলে ধাপে ধাপে গোটা শহরে তা সম্প্রসারিত করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে চণ্ডীগড় ও নয়ডায় একই ধরনের প্রযুক্তি সফলভাবে কার্যকর হয়েছে।


‘ডার্ক জ়োন’ দূর করার লক্ষ্য

শহরে বর্তমানে প্রায় তিন লক্ষ লাইট পোস্ট রয়েছে। এর মধ্যে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার আলো বিভিন্ন সময়ে বিকল থাকে। ফলে বালিগঞ্জ, পিকনিক গার্ডেন, বন্দর এলাকা, দমদম এবং ইএম বাইপাসের কিছু অংশে অন্ধকারের সমস্যা দেখা দেয়।

নতুন স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হলে এই ধরনের ‘ডার্ক জ়োন’ দ্রুত শনাক্ত করে মেরামতি সম্ভব হবে। পুরসভার আশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগে কলকাতা আরও নিরাপদ ও আলোকিত শহরে পরিণত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *