উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন : সুন্দরবনে বাঘের মতো কুমিরের সঠিক সংখ্যা বলা কঠিন। চোখে যতগুলি কুমির দেখা যায়সেগুলি গণনা করা হয়। সাধারণত শীতকালে খাঁড়ির পাড়ে রোদ পোহাতে পাড়ে থাকা কুমিরদের মাথা গুনে সুন্দরবনে ঠিক কত কুমির রয়েছে তার সঠিক সংখ্যা সংগ্রহ করতে দু’মাস অন্তর এবার গননা করবে বনদপ্তর। সুন্দরবনে বাঘের মতো কুমিরের গননা করা হয়। ডিসেম্বর মাসে বাঘ গণনার সঙ্গে শুরু হয় কুমির গণনার কাজ। সঠিক বাঘ গণনার মতো কুমির গননার কাজ সহজ নয়। এই কাজ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বাঘ গণনার কাজে জঙ্গলে ট্রাপ ক্যামেরা বসানো হয়। কিন্তু কুমির গননায় ছোট ছোট নৌকায় চেপে বনকর্মীদের খাঁড়িতে ঢুকে কুমিরের মাথা গুনতে হয়। বছরের একবারে এই কাজ সম্ভবপর নয় বলে মনে করছে বনদপ্তর।রাজ্য বনদপ্তর সূত্রে জানা গেল, এতদিন বছরে একটা সময় কুমির গননার কাজ করা হত। মূলত শীতকালেই এই কাজ হত। এতে কুমিরের সঠিক সংখ্যা উঠে আসছে না।তাই এবার থেকে দু’মাস অন্তর করে গণনার কাজ করা হবে।সর্বশেষ সর্বভারতীয় বাঘ গননায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০১। বাঘের মতো কুমিরের সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছর ২০২৪-২০২৫ সালে গননায় আনুমানিক ২৪২টি কুমির পাওয়া গিয়েছে।সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভের জঙ্গলে বাঘের বাস।আর সেখানকার নোনাজলে কুমিরের বাসস্থান। বাঘের মতো কুমিরের সংখ্যাও বেড়েছে। সুন্দরবন বাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রের এক অধিকর্তা জানান, সুন্দরবনে বাঘের মতো কুমিরের সঠিক সংখ্যা বলা কঠিন। চোখে যতগুলি কুমির দেখা যায় সেগুলি গণনা করা হয়। সাধারণত শীতকালে খাঁড়ির পাড়ে রোদ পোহাতে পাড়ে থাকা কুমিরদের মাথা গুনে থাকেন বনকর্মীরা। এ ছাড়া কুমিরের ছাপ দেখে কুমিরের সংখ্যা গোনা হয়।গননায় যে সংখ্যা উঠে আসে সেটা ছাড়াও আরও কুমির থাকতে পারে।গতবার গননায় সব চেয়ে বেশি কুমির দেখা গিয়েছে রায়দিঘি রেঞ্জে। সজনেখালি এবং ন্যাশনাল পার্কের দিকেও কুমিরের বাস কম নয়। এবার অবশ্য তাদের সেখানে কম দেখা গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলেন, কুমিররা ডিম পাড়ার সময় জলে থাকে না। তারা এমন একটা জায়গা বেছে নেয় যেখানে সব সময় জল থাকে না। সেখানে ডিম পাড়ে তারা। ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়ার পর মা তাদের খেয়াল রাখে। অন্তত চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত তারা সেখানে থাকে।এর পরে তারা জলে নামে।
সুন্দরবনে এবার থেকে দু’মাস অন্তর কুমির গননা করবে বন দফতর
