গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু ঘিরে ভারত-পাক সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই হামলায় পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিদের নাম জড়ানোর পরই সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এবার কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে ইরাবতী (রাভি) নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে প্রবাহ বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নয়াদিল্লি।
জম্মু ও কাশ্মীরের জলসম্পদমন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা জানিয়েছেন, কাশ্মীর-পাঞ্জাব সীমান্তে নির্মীয়মাণ শাহপুর কান্দি বাঁধের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। এরপর ইরাবতীর অতিরিক্ত জল আর পাকিস্তানের দিকে যেতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে রানা বলেন, দেশের স্বার্থে এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, কাঠুয়া ও সাম্বা জেলা দীর্ঘদিন ধরেই খরাপ্রবণ এলাকা। বাঁধ নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে পঞ্জাবে প্রায় ৫,০০০ হেক্টর এবং জম্মু ও কাশ্মীরে ৩২,১৭৩ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা মিলবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পহেলগাঁও হামলার পর চন্দ্রভাগা (চেনাব) নদীর উপর চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও দ্রুততর করা হয়েছে। ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে সেগুলি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শাহপুর কান্দি প্রকল্পে জোর দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই। ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পে অনুমোদন দেয় এবং ৪৮৫.৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।
এদিকে, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পাকিস্তান। হেগের আদালত দিল্লির কাছে জবাব চাইলেও ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই আইনি প্রক্রিয়ার বৈধতা মানে না এবং শুনানিতে অংশ নেয়নি।
১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী, বিপাশা (বিয়াস), শতদ্রু (সাটলেজ) ও ইরাবতী (রাভি) নদীর জল নিয়ন্ত্রণের অধিকার ভারতের হাতে। অন্যদিকে সিন্ধু, বিতস্তা (ঝিলম) ও চন্দ্রভাগা (চেনাব) নদীর জল ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনও পক্ষই সম্পূর্ণভাবে জলপ্রবাহ আটকে রাখতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিন্ধু অববাহিকার জলের উপর পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষি নির্ভরশীল। ফলে ভারতের পদক্ষেপে সে দেশের পঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে সেচব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতের এই কৌশলগত পদক্ষেপে ইসলামাবাদের অস্বস্তি যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
