প্রেমিকের বাড়িতে নিমন্ত্রণ, সন্ধ্যায় নিখোঁজ; পরে ক্যানেল থেকে উদ্ধার দেহ
পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি এলাকায় এক যুবকের দেহ সেচ ক্যানেল থেকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় মৃতের স্ত্রী ও তাঁর এক পরিচিত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কজনিত কারণে খুনের অভিযোগ উঠে এসেছে।
মৃত যুবকের নাম সফিকুল ইসলাম আনসারি ওরফে আরিফ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ভিনরাজ্যে সোনার কারিগরের কাজ করতেন। প্রায় এক মাস আগে বাড়ি ফিরেছিলেন এবং শীঘ্রই ফের কর্মস্থলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কয়েক বছর আগে তাঁর সঙ্গে রাজিয়া সুলতানার বিয়ে হয়। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সকালে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে মিলিকপাড়ায় এক পরিচিতের বাড়িতে যান সফিকুল। অভিযুক্ত ব্যক্তি মমতাজউদ্দিন ওরফে উজ্জ্বল শেখ তাঁদের নিমন্ত্রণ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সন্ধ্যার দিকে সফিকুলকে সঙ্গে নিয়ে বাইকে করে বেরোন ওই ব্যক্তি। এরপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান সফিকুল।
সন্ধ্যার পর স্থানীয় সেচ ক্যানেল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়েছে এবং পরে দেহ ক্যানেলে ফেলে দেওয়া হয়।
দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতের পরিবারের সদস্যরা স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও মমতাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তোলেন। তদন্তকারীরা দু’জনের বক্তব্যে অসঙ্গতি খুঁজে পান। এরপর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জেরায় অভিযুক্তরা খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ঘটনায় আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ঘটনার তদন্ত চলছে।
