বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে অস্বস্তিতে সিপিএম। দলের কাজকর্ম ও নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানালেন তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমান। ইতিমধ্যেই তিনি রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
চিঠিতে প্রতীক উর রহমান লিখেছেন, “সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সেলিম–হুমায়ুন বৈঠক ঘিরে বিতর্ক
সম্প্রতি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি নেতৃত্ব এই বৈঠক নিয়ে কটাক্ষ করে। জোট-সম্ভাবনা ও দলের নীতি-নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে।
এই আবহে সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ প্রকাশ্যে দলের অবস্থানকে সমর্থন করেন। তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতীক উর রহমান লেখেন, “নীতি-নৈতিকতা ছাড়া, আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।” যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়।
লড়াকু মুখ হিসেবে পরিচিত
প্রতীক উর রহমান সিপিএমের এক পরিচিত তরুণ মুখ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বাম প্রার্থী হিসেবেও লড়েছিলেন। যদিও জয় পাননি, তবে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ও লড়াকু মনোভাব দলীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে—এমন জল্পনাও ছিল। তার মধ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, দলীয় অন্দরে কি মতভেদ বাড়ছে?
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
প্রতীক উর রহমানের চিঠি ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন। যদিও চিঠির সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিপিএমের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা সিপিএমের সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় কি না।
