মহাশিবরাত্রিতে ভক্তসমাগমে উপচে পড়ল বালির কল্যাণেশ্বর মন্দির

মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে রবিবার সকাল থেকেই বালির প্রাচীন কল্যাণেশ্বর মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই মন্দির অবস্থিত বালির কল্যাণেশ্বরতলায়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই কল্যাণেশ্বর শিবলিঙ্গ জ্যান্ত শিবেরই এক প্রতীক—এমন কথাও নাকি বলেছিলেন শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব। সেই রীতি মেনেই আজও পূজা-অর্চনা চলে।

মন্দিরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন-এর সন্ন্যাসীরাও শিবরাত্রিতে এখানে শিব আরাধনা করেন। শোনা যায়, মঠ প্রতিষ্ঠার সময় স্বামী বিবেকানন্দ-ও এখানে এসেছিলেন। এছাড়া ১৯১৫ সালে ব্রহ্মানন্দ মহারাজ দক্ষিণেশ্বর থেকে শিষ্যদের নিয়ে এসে এখানে পূজা দেন।

ইতিহাস বলছে, কয়েকশো বছর আগে এই এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। সেখানেই এক শিবলিঙ্গের সন্ধান মেলে। পরে স্থানীয় মানুষ সেই শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। ১২৪৩ বঙ্গাব্দে এক প্রবল ঝড়ে মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে তা নতুন করে গড়ে তোলা হয়।

এদিনের পুজোয় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি প্রবীর রায়চৌধুরী ও পল্টু বণিক সহ আরও অনেকে। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় কল্যাণেশ্বর মন্দিরে পুজো দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাওড়া জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি কৈলাশ মিশ্র।

মহাশিবরাত্রির পুণ্যতিথিতে ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে বালির এই ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান। হর হর মহাদেব ধ্বনিতে দিনভর গমগম করে মন্দির চত্বর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *