কলম্বো, ১৪ ফেব্রুয়ারি: শেষমেশ বল গড়াচ্ছে মাঠে। কিন্তু R. Premadasa Stadium-এ ভারত–পাক ম্যাচ ঘিরে উত্তাপ আগের মতোই তীব্র। পিসিবির আবেদন-নিবেদন সত্ত্বেও ভারতীয় শিবির তাদের অবস্থান বদলায়নি। হ্যান্ডশেক ইস্যু থেকে শুরু করে অনুশীলনের সময়—সব ক্ষেত্রেই দূরত্ব বজায় রেখেই এগোচ্ছে টিম ইন্ডিয়া।
পাকিস্তান অনুশীলন সেরে মাঠ ছাড়ে দুপুরে, ভারত নামে বিকেলে। মুখোমুখি না হওয়ার কৌশল যেন ম্যাচ শুরুর আগেই মানসিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নাটকের পর মাঠে নামা
প্রায় দু’সপ্তাহ অচলাবস্থার পর অবশেষে মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা এবং আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত সরে আসতে হয়েছে নকভিদের। সমালোচকদের একাংশ বলছেন, পরিসংখ্যানই পাকিস্তানের ভয় বাড়াচ্ছে।
আইসিসি ইভেন্টে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক রেকর্ড মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। এমনকি শেষ এশিয়া কাপে তিনবার মুখোমুখিতে ফল ছিল ৩-০ ভারতের পক্ষে। উপরন্তু ভারত বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন—যদিও রোহিত, বিরাট বা জাদেজার অনুপস্থিতি রয়েছে, তবুও শক্তিতে এগিয়ে সূর্যদের দল।
তারিকের ‘স্লিং’ অস্ত্র
পাকিস্তান শিবিরে নতুন চমক উসমান তারিক। অদ্ভুত লো-অ্যাকশন, অনেকটা ‘স্লিং’ ভঙ্গিতে বল করেন—যে স্টাইল জনপ্রিয় করেছিলেন Lasith Malinga। ঘরোয়া ক্রিকেটে Kedar Jadhav-কেও এভাবে বল করতে দেখা গিয়েছে।
তবে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে অধিনায়ক Gerhard Erasmus প্রায় একই ধরনের অ্যাকশনে বল করেছিলেন। ফলে Ishan Kishan জানিয়ে দিয়েছেন, তারিকের জন্য প্রস্তুতি আগেই হয়ে গেছে।
অভিষেক খেলবেন?
এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তান বোলিংকে ধ্বংস করেছিলেন অভিষেক শর্মা। পাকিস্তান অধিনায়ক Salman Ali Agha বলেছেন, “আমরা চাই অভিষেক আমাদের বিরুদ্ধে খেলুক।” জবাবে Suryakumar Yadav কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন—“পাকিস্তান যদি চায়, তাহলে ও খেলবে।”
নেটে অভিষেককে দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করতে দেখা গেছে, পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন কোচ Gautam Gambhir। সব মিলিয়ে দলে ফেরার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
স্পিন বনাম স্পিন, আর বৃষ্টির ভ্রুকুটি
প্রেমাদাসার উইকেট ধীরগতির। তাই অর্শদীপের বদলে কুলদীপকে খেলানোর ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তান যদি চার স্পিনার নামায়, ভারতও তিন স্পিনার নিয়ে নামতে পারে।
তবে বড় চিন্তা কলম্বোর আকাশ। নিম্নচাপের কারণে রাতের দিকে কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ম্যাচ ভেস্তে গেলে দুই দলই এক পয়েন্ট পাবে—তাতে ভারতের সুপার এইট কার্যত নিশ্চিত, কিন্তু পাকিস্তান থাকবে অনিশ্চয়তায়।
উপসংহার
মাঠের বাইরের নাটক, পরিসংখ্যানের চাপ, কৌশলের পাল্টাপাল্টি চাল—সব মিলিয়ে এই ভারত–পাক ম্যাচ শুধু ক্রিকেট নয়, মানসিক যুদ্ধও বটে। এখন দেখার, প্রেমাদাসার সবুজে কার স্নায়ু শক্ত থাকে শেষ পর্যন্ত।
