ভালোবাসার শক্তিকেই জনসেবার প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করে তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, “ভালোবাসা দীর্ঘজীবী হোক।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার লাইন উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন—
“তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার, জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।”
এই উদ্ধৃতির মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, ভালোবাসা কেবল ব্যক্তিগত আবেগ নয়, তা এক চিরন্তন মানবিক শক্তি।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ভ্যালেন্টাইন্স ডে কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার দিন নয়, বরং যে কোনও রূপে ভালোবাসা উদযাপনের দিন। তাঁর কথায়,
“মন খুলে, পবিত্র ভাবে ভালোবাসা উদযাপন করা উচিত। ভালোবাসা সমস্ত জাতি, ধর্ম, বর্ণের ঊর্ধ্বে।”
নিজের জীবনে ভালোবাসার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতা বলেন, মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসাই তাঁকে জনসেবায় অনুপ্রাণিত করে। সেই ভালোবাসার শক্তিতেই তিনি সব ঝড়-ঝঞ্ঝার মোকাবিলা করেন, ধৈর্য ধরে সব কথা শোনেন এবং ন্যায় ও সম্মানের জন্য লড়াই করার সাহস পান।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রেমদিবসে এমন বার্তা সচরাচর রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে দেখা যায় না। তাই এই পোস্ট অনেকের কাছেই নজিরবিহীন। বরাবরই সাদামাটা জীবনযাপন, হাওয়াই চটি, গান, কবিতা, লেখালেখি ও ছবি আঁকার মাধ্যমে নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন তিনি—এই বার্তাও যেন তারই প্রতিফলন।
তবে বিরোধী শিবিরের একাংশের কটাক্ষ, ভোটের আগে তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণ করতেই এমন পোস্ট। যদিও তৃণমূল সমর্থকদের দাবি, ভালোবাসা ও মানবিকতার বার্তা দেওয়াই ছিল মুখ্যমন্ত্রীর মূল উদ্দেশ্য।
সব মিলিয়ে, রাজনীতির মঞ্চে প্রেমদিবসের এমন বার্তা যে নতুন মাত্রা যোগ করল, তা বলাই যায়।
