রুদ্ধশ্বাস নাটকের সাক্ষী থাকল আমেদাবাদ। জোড়া সুপার ওভারের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে কার্যত ছিটকে গেল আফগানিস্তান। নির্ধারিত ২০ ওভার এবং পরপর দুই সুপার ওভার—তিনবারই ম্যাচ জেতার সুযোগ এসেছিল রশিদ খানদের সামনে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুলের খেসারত দিয়েই স্বপ্নভঙ্গ হয় আফগান শিবিরের।
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রহমানুল্লা গুরবাজের বিধ্বংসী ব্যাটিং আফগানিস্তানকে জয়ের একদম দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল। ৪২ বলে ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১১ রান, হাতে মাত্র একটি উইকেট। কাগিসো রাবাডার প্রথম বলেই নুর আহমেদ আউট হলেও সেটি নো বল হয়। পরের বলেই ছয় মারেন নুর, এরপর আসে দুই রান। শেষ তিন বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। কিন্তু দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে ফজলহক ফারুকি রান আউট হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইয়ে।
প্রথম সুপার ওভারে আজমাতুল্লাহ ওমরজাইয়ের ব্যাটে ১৭ রান তোলে আফগানিস্তান। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ বলে দরকার ছিল ৭ রান। চাপের মুখে ফজলহকের শেষ বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ট্রিস্টান স্টাবস আবারও ম্যাচ টাই করে দেন।
নাটক থামে দ্বিতীয় সুপার ওভারেও নয়। ওমরজাইয়ের করা ওভারে ২৩ রান তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। পাল্টা ব্যাট করতে নেমে কেশব মহারাজের প্রথম বলে রান পাননি মহম্মদ নবি, দ্বিতীয় বলেই ফিরে যান তিনি। ফলে শেষ চার বলে প্রয়োজন পড়ে ২৪ রান। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে নেমে টানা তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান গুরবাজ। শেষ বলে দরকার ছিল ৬ রান। ষষ্ঠ বলটি ওয়াইড হওয়ায় সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ৫ রান। কিন্তু শেষ বলে গুরবাজকে আউট করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নাটকীয় জয় এনে দেন মহারাজ। চার রানে হার মানে আফগানিস্তান।
এই হারের পর একাধিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন দ্বিতীয় সুপার ওভারে বল করেননি অধিনায়ক রশিদ খান? আবার কেন শুরুতে গুরবাজের বদলে নবিকে পাঠানো হল? এই দুটি সিদ্ধান্তই যে আফগানিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান কার্যত শেষ করে দিল, তা মেনে নিচ্ছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একাংশ।
