তিন দিনের আতঙ্ক কাটিয়ে জঙ্গলে ফিরল বাঘ

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন : ঘেরাটোপ ভেঙে হেড়োভাঙা পেরিয়ে জঙ্গলে ফিরলো বাঘ, তিন দিনের আতঙ্ক শেষে অবশেষে স্বস্তি ঝড়খালিতে। টানা তিন দিনের উৎকণ্ঠা, টহল আর স্নায়ুচাপের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে লোকালয়ে ঢুকে পড়া রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার তার সুন্দরবনের জঙ্গলে ফিরে গেল। রবিবার সকালে বনদপ্তর ও বিশেষ টাইগার রেসকিউ টিমের যৌথ তল্লাশিতে জানা যায়, নাইলনের জাল ছিঁড়ে বাঘটি ঘেরাটোপ ভেঙে হেড়োভাঙা নদী সাঁতরে উল্টো দিকের হেড়োভাঙা চার নম্বর গভীর জঙ্গলে ঢুকে পড়েছে।এতে বড়সড় বিপদ এড়ানো গেছে বলে মনে করছেন বনকর্মীরা।শুক্রবার সুন্দরবনের ঝড়খালি গ্রাম সংলগ্ন ঝোপঝাড়ে বাঘ ঢোকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। গ্রামবাসীরা ঘর থেকে বেরোনো বন্ধ করে দেন, সন্ধ্যার পর কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে এলাকা। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বনদপ্তরের ঝড়খালি বিটের কর্মীরা নাইলনের জাল টাঙিয়ে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেন।কুলতলি থেকে আনা হয় ৩৩ সদস্যের বিশেষ টাইগার রেসকিউ টিম।বাঘটিকে নিরাপদে আটক করতে দু’টি খাঁচাও পাতা হয়েছিল।আর পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শুক্রবার থেকেই ঝড়খালির অ্যানিম্যাল পার্ক পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়।রবিবার তল্লাশিতে বন কর্মীদের নজরে আসে, দু’টি নাইলন জালের সংযোগস্থলের একটি অংশ ছিঁড়ে গেছে। সেই ফাঁক গলেই বাঘটি বেরিয়ে যায় বলে অনুমান। পরে নদীর পাড়ে পায়ের ছাপ ও চলাচলের চিহ্ন দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়, বাঘটি হেড়োভাঙা নদী সাঁতরে জঙ্গলে ফিরে গেছে।দক্ষিণ ২৪ পরগনার বন আধিকারিক( ডিএফও) নিশা গোস্বামী জানান,আমরা জায়গাটি জাল দিয়ে ঘিরে রেখেছিলাম এবং খাঁচাও পাতা ছিল। কিন্তু বাঘটি জাল টপকে নদী পেরিয়ে জঙ্গলে ফিরে গেছে।
সাধারণত শীতকালে খাবারের সন্ধানে বাঘ লোকালয়ে ঢোকে, কারণ নদী-খালে জল কমে যায়। তবে এবার গরমের শুরুতেই বাঘের গ্রামে ঢুকে পড়া বন দপ্তরকে ভাবাচ্ছে।কুলতলি ও মৈপীঠ সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েক মাসে একাধিকবার বাঘ ঢোকার ঘটনা ঘটেছে।বন আধিকারিকদের মতে, জঙ্গল ঘেঁষা গ্রাম এবং নদীর মাঝে তৈরি হওয়া চওড়া চর বাঘের চলাচল সহজ করে দিচ্ছে।তবে আতঙ্ক কেটে গেলেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বাসিন্দাদের। সুন্দরবনের গর্ব এই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে দেখা যেমন বিরল সৌভাগ্য, তেমনি লোকালয়ে তার উপস্থিতি যে কতটা বিপজ্জনক ঝড়খালির মানুষ তা আরও একবার উপলব্ধি করলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *