লোকসভা অধিবেশন জুড়ে শাসক ও বিরোধী দলের টানাপোড়েনের আবহে এবার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পথে হাঁটছে বিরোধী শিবির। সূত্রের খবর, বাজেট অধিবেশন চলাকালীনই এই প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এমন প্রস্তাবের জন্য প্রায় ২০ দিনের নোটিস প্রয়োজন।
বিরোধীদের অভিযোগ, লোকসভা পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হচ্ছে না এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার দাবি জানানো সত্ত্বেও তা অনুমোদন করা হচ্ছে না।
🔥 অধিবেশন বারবার মুলতুবি, বাড়ছে অসন্তোষ
গত কয়েক দিন ধরেই লোকসভায় হট্টগোল লেগেই রয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, তাদের নেতাদের বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে না এবং বারবার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হচ্ছে।
সোমবারও কংগ্রেসের তরফে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি ওঠে, কিন্তু অনুমতি মেলেনি বলে অভিযোগ।
🛑 প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ঘিরে বিতর্ক
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপন ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তবে তিনি সংসদে উপস্থিত হননি।
সরকারি সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, সংসদের ভিতরে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীরিক হামলার সম্ভাবনা ছিল।
যদিও কংগ্রেস এই অভিযোগকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, এই ধরনের আশঙ্কার কথা তুলে বিরোধীদের মুখোমুখি হওয়া এড়ানো হয়েছে।
👩⚖️ মহিলা সাংসদদের বিক্ষোভ নিয়েও জল্পনা
বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আসনের কাছে কয়েকজন বিরোধী মহিলা সাংসদ প্ল্যাকার্ড নিয়ে জড়ো হয়েছিলেন বলে জানা যায়। পরে অন্যান্য মন্ত্রীদের অনুরোধে তারা সরে যান। এই ঘটনাকেই নিরাপত্তা ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
⚖️ বিরোধীদের অভিযোগ: পক্ষপাতিত্ব
বিরোধী দলগুলির বক্তব্য,
- আলোচনার দাবি মানা হচ্ছে না
- সাংসদদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে
- স্পিকার শাসকদলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন
এই অভিযোগের জেরেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত।
🏛️ সংসদে নজিরবিহীন পরিস্থিতি?
সরকারি সূত্রের মতে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদজ্ঞাপন ভাষণ না দেওয়া বিরল ঘটনা। বিরোধীদের মতে, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী সরকারের মনোভাব।
📌 এখন কী?
অনাস্থা প্রস্তাব আনতে গেলে নির্দিষ্ট সাংসদ সংখ্যার সমর্থন ও প্রক্রিয়াগত নিয়ম মানতে হবে। বিরোধীরা সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, সংসদের ভেতরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
