রাজ্য সরকারের তথাকথিত কল্পতরু বাজেট আশাকর্মীদের মন গলাতে পারল না। ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণাতেও অসন্তুষ্ট তাঁরা। শুক্রবার ১১ দফা দাবিতে পথে নামলেন আশাকর্মীরা। উদ্দেশ্য ছিল স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেওয়া। কিন্তু স্বাস্থ্যভবনের সামনে ব্যারিকেড করে তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। এর জেরে আশাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, পরিস্থিতি হয়ে ওঠে উত্তপ্ত।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ৮ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন আশাকর্মীরা। সেই আন্দোলনের পর রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে আশাকর্মীদের জন্য একাধিক ঘোষণা করা হয়। সরকারের তরফে জানানো হয়—
- মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা বাড়ানো হবে
- ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হবে
- কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবার পাবে ৫ লক্ষ টাকা এককালীন আর্থিক সাহায্য
কিন্তু এই ঘোষণায় মোটেই সন্তুষ্ট নন আশাকর্মীরা। তাঁদের সাফ বক্তব্য, “ভাতা নয়, বেতন চাই।” সেই কারণেই শুক্রবার ফের রাস্তায় নামেন তাঁরা।
🚧 স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ
এদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশাকর্মীরা স্বাস্থ্যভবন চত্বরে জমায়েত করেন। কিন্তু স্বাস্থ্যভবনের কিছুটা আগেই ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। এর প্রতিবাদে রাস্তায় বসে পড়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন আশাকর্মীরা।
আন্দোলনরত আশাকর্মীদের বক্তব্য,
“আমরা ১,০০০ টাকার জন্য আন্দোলন করিনি। আমাদের ভাতা বাড়াতে হবে না। ওই হাজার টাকা আমরা ফেরত দিচ্ছি। আমরা বেতন চাই। লোকে বাড়িতে বসে ৫০০ টাকা বাড়তি পায়, আর আমরা এত পরিশ্রম করেও বেতন পাব না?”
🗣️ আন্দোলনকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি
এই আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী ইসমাতারা খাতুন বলেন,
“আমাদের দাবির প্রতি কোনও সুবিচার করা হয়নি। আমরা আগেই জানিয়েছিলাম আজ কর্মসূচি রয়েছে। তা সত্ত্বেও লৌহকপাট বসানো হল কেন? আমরা মারপিট করতে আসিনি, শান্তিপূর্ণভাবেই আমাদের দাবি জানাতে এসেছি।”
আশাকর্মীদের আরও হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হলে ৩১ মার্চের মধ্যে সারাবছরের কাজের যে খতিয়ান জমা দিতে হয়, তা তাঁরা দেবেন না। এতে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সব মিলিয়ে, রাজ্য সরকারের বাজেট ঘোষণার পরেও আশাকর্মী আন্দোলন যে আরও তীব্র হচ্ছে, তারই স্পষ্ট ছবি ধরা পড়ল স্বাস্থ্যভবনের সামনে।
