দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় চার্জশিট পেশ করল বিধাননগর পুলিশ। সেই চার্জশিটে ‘পলাতক’ হিসেবে দেখানো হয়েছে রাজগঞ্জের সদ্য প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে। বিধাননগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে জানিয়েছে, এই মামলায় মোট পাঁচজন অভিযুক্তের নাম রয়েছে এবং তাঁরা ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টে প্রশান্ত বর্মনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরই বিধাননগর পুলিশের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি আত্মসমর্পণ না করায়, চার্জশিটে তাঁর নাম ‘পলাতক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চার্জশিটে যাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেই পাঁচজনের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ তাঁদের হাতে এসেছে।
উল্লেখ্য, মেদিনীপুরের বাসিন্দা স্বপন কামিল্যা দত্তাবাদে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে স্বর্ণ ব্যবসা করতেন। গত ২৮ অক্টোবর দত্তাবাদ থেকে তাঁকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেদিন দুটি গাড়িতে করে কয়েকজন সেখানে আসে, যার মধ্যে একটি গাড়িতে নীল বাতি লাগানো ছিল। দু’দিন পর, ৩০ অক্টোবর নিউটাউন এলাকা থেকে স্বপন কামিল্যার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেই মারধরের জেরেই মৃত্যু হয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর। এরপর গাড়িতে করে দেহ অন্যত্র ফেলে রেখে আসা হয়। পরে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে।
এই মারধর ও খুনের ঘটনায় রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মন-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে আসে। তাঁর কয়েকজন সহযোগীর নামও তদন্তে সামনে আসে বলে দাবি পুলিশের। যদিও শুরু থেকেই প্রশান্ত বর্মন দাবি করে আসছেন, তাঁকে এই ঘটনায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
বর্তমানে চার্জশিট পেশের পর অভিযুক্তদের বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে এগোয় এবং ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত প্রশান্ত বর্মন কবে গ্রেফতার হন বা আত্মসমর্পণ করেন, সেদিকেই নজর রয়েছে প্রশাসন ও আদালতের।
