মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় SIR বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপে ভোটার তালিকা চলছে, রোল অবজারভারদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।”
দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের কাজ ছিল মাঠপর্যায়ে যাচাই করা, সেই রোল অবজারভারদের কোনও ভূমিকা রাখা হচ্ছে না।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বিচারে বহু মানুষকে হিয়ারিংয়ের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামীকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জয় গোস্বামীর বয়স আশির বেশি হলেও তাঁকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছে। এমনকি নোটিশে বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধান সংক্রান্ত প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।
SIR বিতর্কে পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সোমবার ওই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, “আমরা এখন সব জায়গায় আমাদের কথা পৌঁছে দিচ্ছি। সংবাদমাধ্যমও গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। SIR-এর ফলে যাঁরা সমস্যায় পড়েছেন, তাঁদের আমরা সঙ্গে করে এনেছি। বাংলায় কী ঘটছে, দিল্লির সংবাদমাধ্যমের সেটা জানা জরুরি।”

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে গেলেও তাঁদের কথা শোনা হয়নি। উলটে অপমানের মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। মমতার দাবি, নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির স্বার্থে কাজ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যে যেখানে ৩০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু মানুষ বসবাস করেন, তাঁদের কি ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে?
বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সব এজেন্সি এবং বিজেপির নেতারা বাংলায় এসে ঘাঁটি গেড়েছেন। তবে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় বলেও তিনি মনে করিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রথমে প্রায় ৪০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর আরও প্রায় ৭০ হাজার নাম কাটার চেষ্টা চলছে। এই কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মমতার প্রশ্ন, সরকার গঠন করবে কে—নির্বাচন কমিশন না সাধারণ ভোটার? তাঁর অভিযোগ, দিল্লির ‘জমিদারি মানসিকতা’ ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, সীমান্ত ও রেল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। তা সত্ত্বেও রাজ্যকে দায়ী করা হচ্ছে। বহুবার কেন্দ্রকে চিঠি দিলেও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাংলায় কথা বললেই মানুষকে বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সোমবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠকে ঠিক কী ঘটেছিল—সে প্রসঙ্গে মমতা স্পষ্ট বলেন, SIR-এর মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসকেই মূলত টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কমিশনারদের তরফে হুমকির সুর ছিল। পাল্টা জবাবে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়ে দেয়, তারা কমিশনের বন্ডেড লেবার নয়। এরপরই বৈঠক বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
SIR বিতর্কে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে রেট্রোস্পেকটিভ আইন আনা ও ইমপিচমেন্টের সম্ভাবনার কথা তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এ বিষয়ে মমতা বলেন, ইমপিচমেন্ট একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে এবং এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দলগতভাবে আলোচনায় অংশ নেবে।
