গোলপার্কে বোমাবাজি–গুলিকাণ্ডে আরও ৪ জন গ্রেফতার, অধরা মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু

গোলপার্কে বোমাবাজি ও গুলিকাণ্ডের ঘটনায় আরও চার জনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। এই নিয়ে রবিবার রাত থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু এখনও অধরা। তাঁর খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।গত রবিবার রাতে কলকাতার গোলপার্ক এলাকায়, কাঁকুলিয়া রোড সংলগ্ন অঞ্চলে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করছেন, এলাকায় গন্ডগোল পাকাতে সক্রিয় সোনা পাপ্পুর দলবলই। যদিও এখনও পর্যন্ত একাধিক অভিযুক্ত ধরা পড়লেও সোনা পাপ্পু পুলিশের জালে ধরা পড়েনি।এ বিষয়ে কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার সোমবার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড়া হবে না।

এর আগেও বিভিন্ন গোলমালের ঘটনায় সোনা পাপ্পুর নাম উঠে এসেছে। অতীতে খুনের মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে জানা যায়। একসময় সোনার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর নামের সঙ্গে ‘সোনা’ যুক্ত হয়। বর্তমানে তিনি কসবা এলাকায় প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ।তিনটি এফআইআর, পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্তরারবিবার রাতের ঘটনার প্রেক্ষিতে রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় এখনও পর্যন্ত তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে।রবিবার রাতেই ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে আরও চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।গ্রেফতারদের নামবাবলু সাউ ওরফে চিনিইন্দ্রজিৎ মাজি ওরফে ছোট বাবু (কসবা থানা এলাকা)জয়ন্ত নস্কর ওরফে সোনু (আনন্দপুর থানা এলাকা)দেবাশিস মণ্ডল ওরফে ভোটু (লেক থানা এলাকা)কীভাবে শুরু হয়েছিল গন্ডগোলস্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ গোলপার্কের পঞ্চাননতলায় একটি ক্লাবের পিকনিক চলাকালীন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপি হালদারের গোষ্ঠীর সঙ্গে সোনা পাপ্পুর দলবলের সংঘর্ষ বাধে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এলাকা দখলের উদ্দেশ্যেই বাপিকে ‘টার্গেট’ করা হয়েছিল।গুলি, বোমা, ভাঙচুরঅভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১০০–১৫০ জন দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বেঁধে এলাকায় চড়াও হয়। গুলি চালানো, বোমাবাজি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি ও স্থানীয়দের বাইক। ছোড়া হয় ইট-পাটকেলও। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল ও বোমার সুতলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *