নিউ টাউনের হোটেলে সেলিম–হুমায়ুন বৈঠক!

জোট নিয়ে এক ঘণ্টার আলোচনা, বেরিয়ে কী বললেন হুমায়ুন কবীর, কোন পথে হাঁটতে পারে সিপিএম

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট রাজনীতি নিয়ে তৎপরতা বাড়ছে। বুধবার রাতে নিউ টাউনের একটি হোটেলে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর ও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

সূত্রের খবর, বৈঠকে মূলত সম্ভাব্য জোট ও আসন সমঝোতা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর জানান, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সিপিএম এবং আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট করে লড়তে আগ্রহী। সেই বিষয়েই সেলিমের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।

হুমায়ুন বলেন,
“মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমরা জোট করে লড়ব কি না, সে বিষয়ে কথা বলেছি। আইএসএফ-এর সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব আমি সিপিএমের উপরেই ছেড়ে দিতে চাই। কংগ্রেস নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। ওরা এখন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় আছে বলে আমার মনে হয় না।”

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সিপিএমের সঙ্গে আসন সমঝোতা এবং একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এই বৈঠক নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না সিপিএম।

বৈঠকের পর সেলিম আনন্দবাজার ডট কমকে বলেন,
“হুমায়ুন বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাকে বার্তা পাঠাচ্ছিল। আজ ওর সঙ্গে দেখা হয়েছে। নতুন দল করলে আমি কথা বলব বলেই জানিয়েছিলাম। ওর ভাবনা শুনলাম। এখন তা দলকে জানাব।”

হুমায়ুন কবীরের দল আদৌ ধর্মনিরপেক্ষ কি না—এই প্রশ্নে সেলিম স্পষ্ট করে বলেন,
“মুখে তো তা-ই বলছে। কিন্তু আগে যে ধরনের কথাবার্তা ও বলেছে, সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে।”

এই বৈঠক ঘিরে সিপিএমের অন্দরে মতবিরোধও সামনে আসতে শুরু করেছে। দলের একাংশের আশঙ্কা, যাঁর বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত বিতর্ক রয়েছে, তাঁর সঙ্গে জোট করলে রাজনৈতিকভাবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অনেকেই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন।

নিউ টাউনের বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সিপিএমের অন্দরে প্রতিরোধের সুর শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলির উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকাগুলির নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই সিদ্ধান্তে পার্টির সংগঠনের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের এক রাজ্য কমিটির সদস্যের মন্তব্য,
“ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের গোমাংস ভক্ষণ নিয়ে কী রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছিল, তা আমরা ভুলিনি। আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের ফলাফলও জানা। এ বার হুমায়ুন—এটাই কি কফিনে শেষ পেরেক?”


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *