তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড় বদল: কল্যাণের বদলে চিফ হুইপের দায়িত্বে সাংসদ কাকলি, শতাব্দী লোকসভার ডেপুটি লিডার

ইতিমধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা গ্রহণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কল্যাণের বদলে সাংসদ ডা: কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভার চিফ হুইপ এবং শতাব্দী রায়কে লোকসভার ডেপুটি লিডার করলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সোমবারই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিফ হুইপের পদ থেকে ইস্তফা প্রত্যাহার করে নিতে বলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কল্যানকে আরও বলেন, বুধবার সন্ধেয় দিল্লি যাব, বৃহস্পতিবার আপনার সঙ্গে দেখা হবে। কিন্তু তার আগেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের নতুন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

এরপরই চিফ হুইপ পদ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা। সেই ইস্তফা গ্রহণ করেছে তৃণমূল। সোমবার সংসদীয় দলের বৈঠক থেকে বেরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। মঙ্গলবারই তা গ্রহণ করে নতুন চিফ হুইপ হিসেবে ব্যারাকপুরের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারকে নিয়োগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে লোকসভায় তৃণমূলের উপ দলনেতা করা হয়েছে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়কে। সংসদীয় দলের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় দলনেতা করার পর দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ তুলে আনা হল।

দলের তরফে এদিন এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে জানানো হয়েছে, “শ্রী কল্যাণ ব্যানার্জি গতকাল লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে চেয়ারপার্সনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। চেয়ারপার্সন তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং এই ভূমিকায় তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রবীণ সাংসদদের সঙ্গে পরামর্শ করে, চেয়ারপার্সন তাৎক্ষণিকভাবে লোকসভায় তৃণমূলের নতুন চিফ হুইপ হিসেবে ডা: কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং লোকসভায় তৃণমূলের ডেপুটি চিফ হুইপ হিসেবে শতাব্দী রায়কে মনোনীত করেছেন।“

সোমবারই লোকসভায় তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অভিষেককে বেছে নিয়েছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ের বদলে অভিষেককে দেওয়া হয়েছিল ওই স্থান। মঙ্গলবার বৈঠক করে দলনেত্রী জানিয়েছিলেন, বিগত বেশ কয়েকমাস ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন সুদীপ বন্দোপাধ্যায়। যার ফলে মোটেই সংসদে আর উপস্থিত থাকতে পারছেন তিনি। সেই পরিস্থিতে লোকসভায় নিজের দলের পরিস্থিতি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি জানিয়েছিলেন রাজ্যসভায় কাজকর্ম ঠিক ভাবে এগোলেও লোকসভার কাজ সঠিকভাবে এগোচ্ছেনা। তাই সুদীপের বদলে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেককে লোকসভার দলনেতার পদে নিযুক্ত করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়কে চিপ হুইপ পদেও নিযুক্ত করা হয়েছিল। আর সেই পদ থেকেই স্বেচ্ছায় ইস্তফা চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন কল্যাণ।

দলের একটি সূত্র জানায়, লোকসভায় দলনেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচমকা পদত্যাগ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ভালো চোখে দেখে নি। মনে করা হচ্ছে, কল্যাণের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়েই দ্রুত তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, আগামী দিনে কল্যাণের ভূমিকা কি হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *