মঙ্গলবার, বীরভূমের ইলামবাজারের পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে ফের গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় । সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, “বাংলার প্রাপ্য টাকা বন্ধ করে দিচ্ছে, অথচ উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে বড় বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কতটা ব্যবস্থা নিচ্ছে কেন্দ্র?বড় বড় চোর তো উত্তরপ্রদেশ-রাজস্থানে বসে আছে! সেখানে কটা টিম গেছে?”সব বিষয়েই দেশের মধ্যে এগিয়ে বাংলা। কেন্দ্রের স্বীকৃতিতেই দেশের সেরা হয়েছে বাংলার বিভিন্ন প্রকল্প। তার পরেও বারবার প্রাপ্য টাকা আটকে রেখে বঞ্চনা করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। এই নিয়ে বাংলা থেকে দিল্লি সর্বত্র আওয়াজ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্না-আন্দোলনে সামিল হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন, ইলামবাজারের পরিষেবা প্রদান মঞ্চ থেকে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা। বলেন, “বাংলার প্রাপ্য টাকা বন্ধ করে দিচ্ছে, অথচ উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে বড় বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কতটা ব্যবস্থা নিচ্ছে কেন্দ্র?”পর পর পাঁচ বছর একশো দিনের কাজে, গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণে বাংলা দেশে সেরা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সেই হিংসা থেকেই গত তিন বছর ধরে কেন্দ্র বাংলার প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে। এর পরেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হিংসার কোনও ওষুধ নেই! ওরা বলে বাংলায় চুরি হয়েছে, অথচ বড় বড় চোর তো উত্তরপ্রদেশ আর রাজস্থানে বসে আছে। সেখানে কটা টিম গেছে? মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, রাজস্থানে যখন মহিলাদের পুড়িয়ে মারা হয়, তখন কটা কমিশন যায়? বাংলায় টিকটিকি কামড়ালেও কেন্দ্রীয় দল এসে পড়ে।” তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিষাক্তদের থেকে দূরে থাকুন, এরা ভয়ঙ্কর”।এদিন ফের ডবলইঞ্জিনের রাজ্যে বাংলাভাষীর উপর অত্যাচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “বাংলা ভাষা বলার জন্য যখন অত্যাচার হচ্ছে, তখনও তো কোনও কমিশন আসে না। যত দোষ নন্দঘোষ! বাংলা উন্নতি করছে, তাই বাংলাকে শাস্তি দিচ্ছে কেন্দ্র।” সোমবারের পরে মঙ্গলবারও পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আপনারা ফিরে আসতে চাইলে ফেরানোর সব ব্যবস্থা সরকারের। আপনাদের পরিবার, ছেলে মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করা, রেশন, সহ সব ব্যবস্থা আমরা করে দেব।”নরেন্দ্র মোদির ভুয়ো প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ভোটের সময় বলে সকলের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেব, আর ভোট চলে গেলে বলে মারব। এটাই তো তোমাদের নীতি?” তীব্র হুঙ্কার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা ভিক্ষে চায় না, বাংলার মাথা নীচু করে বাঁচবে না। বাংলা লড়তে জানে, লড়াই করে বাংলা মাথা উঁচু করেই বাঁচবে।”
Related Posts
বিদ্যুতের পোস্টে বর্ণ পরিচয়ের পাশাপাশি বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে তৈরি হল গ্রন্থাগার
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি : বিদ্যুতের পোস্টে বর্ণ পরিচয়ের মাধ্যমে শিক্ষার পাশাপাশি এবার বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সুন্দরবনের কুলতলির দেউলবাড়িতে তৈরি…
মুকুল রায়কে শেষ শ্রদ্ধা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রথীন ঘোষের
বি. নাথ : সোমবার বেলায় মুকুল রায়ের মরদেহ কলকাতার বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রথমে বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হয়।…
দিতে হবে না বাড়তি নথি! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি মেনেই নয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নির্বাচন কমিশনের
দিনকয়েক আগেই বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ বা নিবিড় সমীক্ষার (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) প্রসঙ্গ টেনে সুর চড়িয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।…
