নীতি আয়োগের রিপোর্ট খারিজ করল মোদি-শাহের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ’ তত্ত্ব

পশ্চিমবঙ্গে নাকি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। নির্বাচন এলেই বিজেপি নেতাদের মুখে একটাই কথা শোনা যায়-অমিত শাহ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত- বিজেপির ছোটবড় প্রায় সব নেতাই এই একই দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, ‘বাঙ্গাল কা সরকার’ নাকি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে।তবে, সম্প্রতি প্রকাশিত নীতি আয়োগের ‘সামারি রিপোর্ট ফর দ্য স্টেট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল’ এই দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ প্রমাণ করে দিয়েছে।এই রিপোর্টের মূল নির্যাস হল, বাংলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই কম। ২০২৩ সালের ‘সেন্সাস পপুলেশন প্রজেকশন’ অনুযায়ী, জাতীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির গড় ০.৯ শতাংশ হলেও, বাংলায় এই হার ০.৫ শতাংশ। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রের এই তথ্য মোদি-শাহের অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত রাজনৈতিক তত্ত্বকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলা যদি সত্যিই অনুপ্রবেশকারীদের চারণভূমি হতো, তাহলে রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিশ্চিতভাবে জাতীয় গড়কে ছাড়িয়ে যেত।এ বিষয়ে রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছেন, “অনুপ্রবেশ নিয়ে ওরা (বিজেপি) যে শুধুমাত্র মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছে, নীতি আয়োগের তথ্যে সেটা ফের স্পষ্ট হল। মনে রাখতে হবে, তত্ত্ব মনগড়া হতে পারে, কিন্তু তথ্য মিথ্যা কথা বলে না। আর যেখানে নীতি আয়োগই এই তথ্য দিচ্ছে, সেখানে ওদের আর মানুষকে বোকা বানানোর পথ রইল না।”মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, ঘুরপথে এনআরসি চালু করতেই নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোচবিহারের দিনহাটার রাজবংশী সম্প্রদায়ের উত্তমকুমার ব্রজবাসীকে আসামের বিজেপি সরকারের এনআরসি নোটিস পাঠানো নিয়েও তিনি সরব হয়েছেন। এমন একটা সময়ে দেশের নীতি নির্ধারক সংস্থার জনসংখ্যা সংক্রান্ত এই রিপোর্ট বিজেপির জন্য একটি বড় ‘সেটব্যাক’ বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, গেরুয়া শিবিরের মুখের দাবিতে আর চিঁড়ে ভিজবে না। এবার বিরোধী পক্ষ কেন্দ্রের রিপোর্ট সামনে রেখেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়বে। প্রয়োজনে এই রিপোর্টকে ভিত্তি করে আইনি লড়াইয়েও যেতে পারবে তারা। প্রবীণ আমলাদের মতে, এটি বাংলায় জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বিরোধী আন্দোলনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে রইল।নীতি আয়োগের এই রিপোর্টের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বাংলার সিংহভাগ মানুষ গ্রামীণ এলাকায় বাস করলেও শহরাঞ্চলের বাসিন্দার সংখ্যা নেহাত কম নয়। ৩৬.৮ শতাংশ জনসংখ্যা শহর এলাকার, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় সামান্য বেশি। জনসংখ্যা ঘনত্বেও বাংলা দেশের গড়ের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। নীতি আয়োগের এই রিপোর্ট আসার পর এবার আগামী দিনে শুরু হতে চলা সেন্সাসের দিকে তাকিয়ে বাংলার সমস্ত মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *