ভূমিপুত্র সংরক্ষণের দাবিতে দীঘায় বাংলা পক্ষর মহামিছিল

আজ দীঘায় এক সুবিশাল মিছিল করল বাংলা পক্ষ। দীঘা রেল স্টেশনের সামনে থেকে শুরু হয়ে দীঘাশ্রী মোড় হয়ে বিখ‍্যাত জাহাজ বাড়ির সামনে শেষ হয় এই মিছিল। মিছিল থেকে উড়িষ্যার পর্যটন বয়কট করার দাবি ওঠে। বাঙালির অভিযোগ যে পুরীতে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু খুন হয়েছিলেন৷ বাংলা পক্ষ মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যের খুনের বিচারের সোচ্চার দাবি তোলে। উড়িষ্যায় বাঙালি বিদ্বেষ বন্ধ না হলে উড়িষ্যার পর্যটন বয়কটের দাবিতে স্লোগান ওঠে৷ দীঘার জগন্নাথ ধামকে ঘিরে যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ আসছে সেখানে ভূমিপুত্র বাঙালির জন‍্য সংরক্ষণ দাবি করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা সম্পাদক জানান, এই বিষয়ে ইতিমধ‍্যেই ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে।

জাহাজবাড়ির সামনে সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সাধারন সম্পাদক ড: গর্গ চট্টোপাধ‍্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি ছাড়াও শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য, সৌম‍্য কান্তি ঘোড়ই, মহ: সাহিন বক্তব‍্য রাখেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সম্পাদক সুতনু পণ্ডিত এই মিছিলের আয়োজক। কলকাতার সম্পাদক সৌম‍্য বেরা, দক্ষিণ ২৪ পরগণার সম্পাদক কুশনাভ মণ্ডল, মালদার সম্পাদক উত্তম মণ্ডল, বাঁকুড়ার সম্পাদক অচিন্ত্য নাথ, পুরুলিয়ার সম্পাদক আজিম শেখ, নদীয়ার জেলা সম্পাদক মধুসূদন ঘোষ প্রমুখ এই কর্মসূচীতে অংশ নেন। দীঘা সহ পাশ্ববর্তী অঞ্চলের স্থানীয় বাঙালি ও পর্যটকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত। স্থানীয় বাঙালি টোটো ও অটো চালকদের পক্ষে এবং উড়িষ্যার অটো দীঘায় ব্যান করার দাবি উঠতেই উচ্ছ্বাস দেখা যায় চারপাশে।

সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ‍্যায় জানান, “বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উড়িষ‍্যায় বাঙালির উপর নির্যাতন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে অথবা হকারি করতে যাওয়া বাঙালিদের উপর ‘বাংলাদেশী’ তকমা দিয়ে নির্যাতন হচ্ছে, আধার কার্ড ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এই আক্রমণ হচ্ছে মুখের ভাষা বাংলা হওয়ার জন‍্য, ধর্মের কারণে নয়। হিন্দু এবং মুসলমান উভয় ধর্মের বাঙালিই আক্রান্ত হচ্ছে।”

সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জানান “এই বাংলায় কয়েক লক্ষ‍ উড়িষ‍্যাবাসী কর্মসূত্রে আছে। তারা সব জায়গাতেই ভালোভাবে বসবাস করে, কাজকর্ম করে, কোথাও জাতিবিদ্বেষী আক্রমণের স্বীকার হয় না। উড়িষ‍্যাতেও কর্মসূত্রে যাওয়া বাঙালির জন‍্য এই নিরাপদ পরিবেশ তৈরী করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *