নিজস্ব : প্রেম-ভালবাসায় অনেক কিছুই হয়ে থাকে। এখানে একে অপরের প্রতি নানা দিক থেকে আকর্ষণ জন্মায়। এর মধ্যে অনেকের মতে ‘লুকস্’ নাকি একটা ম্যাটার করে। তবে সে যাই হোক না কেন প্রেম-ভালবাসায় ‘চুমু’ কিন্তু মানুষের শরীরের অনেকটাই উপকার করে। মনস্তাত্ত্বিকদের মতে দশটি দিক তুলে ধরা হল ‘প্রাইম টাইমস্’-এর প্রতিবেদনে।
১. শুধুমাত্র চুম্বন থেকেও একজন নারী চরম আনন্দ অনুভব করতে পারে। গভীর ও আবেগপূর্ণ চুম্বন মস্তিষ্কে শক্তিশালী স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এতে শরীরে ডোপামিন, অক্সিটোসিন ও এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, যা তীব্র আনন্দের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
২. কারও সাথে চুম্বনের ‘কেমিস্ট্রি’ ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত দিতে পারে
চুম্বনের সময় মস্তিষ্ক অবচেতনভাবে সঙ্গীর গন্ধ ও স্বাদ বিশ্লেষণ করে। এতে ইমিউন সিস্টেমের সামঞ্জস্য বোঝা যায়, যা সুস্থ সন্তান জন্মের সম্ভাবনার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
৩. একজন মানুষ জীবনে গড়ে প্রায় ২০,১৬০ মিনিট চুম্বন খেতে ব্যয় করে।
ডেটিং, প্রেম এবং সম্পর্কের বিভিন্ন মুহূর্ত মিলিয়ে এই সময় দাঁড়ায় প্রায় দুই সপ্তাহের সমান।
৪. হাত ধরা ও চুম্বন মানসিক চাপ কমায়। শারীরিক স্নেহ প্রকাশে শরীরে অক্সিটোসিন হরমোন বাড়ে, যা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
৫. চুম্বন দেওয়ার সময় নারীরা পুরুষদের চেয়ে বেশি খেয়াল করে শ্বাস ও দাঁতের দিকে।
মুখের গন্ধ বা দাঁতের পরিচ্ছন্নতা অবচেতনভাবে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ইঙ্গিত দেয়, যা আকর্ষণ বৃদ্ধি বা কমাতেও পারে।
৬. ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ চুম্বন ছিল ৩১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। ২০০৫ সালের ৫–৬ জুলাই লন্ডনে এক দম্পতি এই রেকর্ড গড়েন। পুরো সময় তারা দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং খুব অল্প সময়ের বিরতি পেয়েছিলেন।
৭. একবার চুম্বনখেলে ১ কোটি থেকে ১০০ কোটি পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া আদান-প্রদান হয়।
মানুষের মুখে শত শত ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। চুম্বনের সময় এগুলো একে অপরের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
৮. ফ্রেঞ্চ কিস করলে মুখের ৩৪টি পেশী সক্রিয় হয়। গভীর চুম্বন মুখের অনেক পেশী ও স্নায়ুকে সক্রিয় করে, তাই এটি সাধারণ চুম্বনের চেয়ে বেশি তীব্র অনুভূতি দেয়।
৯. এক মিনিট চুম্বনে প্রায় ২৬ ক্যালোরি পর্যন্ত পোড়ে। চুম্বনের সময় হৃদস্পন্দন ও রক্তপ্রবাহ বাড়ে এবং মুখের পেশী সক্রিয় হয়, ফলে সামান্য ক্যালোরি খরচ হয়।
১০. মানুষ জন্মগতভাবেই ঠোঁটের স্পর্শ খোঁজে। নবজাতক শিশুরা খাওয়ার সময় ঠোঁট দিয়ে খোঁজার (rooting reflex) স্বাভাবিক প্রবৃত্তি নিয়ে জন্মায়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই কারণেই বড় হয়ে মানুষ ঠোঁটের স্পর্শকে আরাম ও ভালোবাসার সাথে যুক্ত করে।
